গোপাল ভাঁড়কে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা, কি অপরাধ করেছিলেন তিনি, জানুন

436

গোপাল ভার কে আমরা সকলেই চিনে। গোপাল ভাঁড়ের সঙ্গে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে। এমন কোন বাঙালি নেই, যিনি গোপাল ভাঁড়ের নাম শোনেননি। মূলত গোপাল ভাঁড় ছিলেন নদীয়া জেলার একজন প্রখ্যাত মনোরঞ্জনকারী। তার আসল নাম গোপাল চন্দ্র প্রামাণিক। তিনি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভায় নিযুক্ত ছিলেন। কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভায় এবং জনগণের যাবতীয় বিনোদনের এক অফুরন্ত ভান্ডার ছিলেন তিনি। জানলে অবাক হতে হয় যে, এত প্রিয় মানুষ হয়েও বাংলায় তার ঠাঁই হয়নি। বরং তাকে দেওয়া হয়েছিল ফাঁসির আদেশ।

তখন সালটা ছিল ১৭৫৭। সিরাজউদ্দৌলা ওই সময়ে বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব ছিলেন। তার শত্রু সংখ্যা ছিল বহু। প্রত্যেকেই নিজের কর্ম হাসিল করার জন্য ইংরেজ বণিকদের সঙ্গে চুক্তি করেন। এই ষড়যন্তের কৃষ্ণচন্দ্রের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র নবাব কে যুক্ত হতে বলা হয়। কৃষ্ণচন্দ্র পরিকল্পনায় সকলে সমর্থন জানালেও শুধু একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি না বলে দিয়েছিলেন।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্র গোপাল সাবধান করে দিয়ে বলেন যে, ইংরেজরা কিন্তু সুচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হতে পারে। তাই তাদের সাহায্য না করাই উচিত।কিন্তু গোপাল ভাঁড়ের কথায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কর্ণপাত না করে গোপালকে অভিযোগ করতে থাকেন। অবশেষে কৃষ্ণচন্দ্র গোপাল কি শর্ত দিলেন যে, যদি গোপাল নবাব কে ভেঙে দিয়ে আসতে পারে তাহলে তিনি নবাবের বিরুদ্ধে কখনো যাবেন না।

কৃষ্ণচন্দ্র কথা শুনে গোপাল মুর্শিদাবাদের দিকে রওনা হলেন। তবে নবাবের প্রাসাদে কিছুতেই তাকে ধরতে দেওয়া হচ্ছিল না। অবশেষে গোপাল ভাঁড় এক প্রহরে হাতে কামড় বসিয়ে দিলেন। ফলস্বরূপ তাকে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হলো নবাবের কাছে। সম্পূর্ণ ঘটনা শুনে নবাব বলেন যে,”কেন তুমি এখানে এসেছ? তুমি কে?” নবাবের কথায় কোনো জবাব না দিয়ে গোপাল ভাঁড় নবাব কে ভেংচি দিলেন। এর ফলে নবাব ক্রুদ্ধ হয়ে বলেন যে, আগামীকাল তোমার বিচার হবে। এরইমধ্যে গোপাল মীরজাফরকে বলেন যে, আমি কিনতে এসেছিলাম তোমাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিতে। কিন্তু আমি কাউকে কিছু বলব না। আমি সবাইকে সব কথা বলে দিলে আমার অন্নদাতা কৃষ্ণচন্দ্রের ক্ষমতা চলে যাবে।

গোপাল ভাঁড়ের কথা শুনে মীরজাফর ঘাবড়ে গিয়ে গোপাল ভাঁড়ের ফাঁসির ব্যবস্থা করলেন। কিন্তু গোপাল ভাঁড় একটুও বিচলিত না হয়ে নবাব কে দেখলেই আবার ভেংচি কেটে দিলেন। সবকিছু দেখে অবশেষে নবাব বললেন যে, এই লোকটি একেবারে উন্মাদ। একে ফাঁসি দেওয়া ঠিক হবেনা। অবশেষে বুদ্ধির জোরে গোপাল ভাঁড় মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেলেন। তবে এত কিছু করার পরেও যখন তিনি শুনলেন যে কৃষ্ণচন্দ্র তার সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন, তখন গোপাল ভাঁড় পরিবারকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে রাজ্য ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন।