আমাদের দেশে ১০ শতাংশেরও কম পুরুষেরা বাড়ির কাজে মহিলাদের করেন সাহায্য

342

ভারতবর্ষে অন্তর্গত বিভিন্ন পরিবারের দিকে এক নজর দিলেই বোঝা যায় যে, প্রতিটি পরিবারের মধ্যে একটি শ্রমবিভাজন করা থাকে। আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি বাইরের কাজ সামলাতে আমাদের বাবাকে, এবং ঘরের কাজ আমাদের মাকে সামলাতে। আমরা এরকম একটি দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত। এইরকম একটি গড্ডালিকা প্রবাহে আমরা চিরকাল বড় হয়েছি। এই দৃশ্য দেখে দেখে প্রত্যেকটি ব্যক্তি তার ছেলেমেয়েদের একই শিক্ষা দিতে চায়। তাই হয়তো মেয়েরা একটু বড় হলেই মায়েরা ঘরের কাজকর্ম শেখানোর জন্য উঠেপড়ে লাগেন। অন্যদিকে ছেলেরা একটু বড় হলেই চাকরির সন্ধানে বেরিয়ে যেতে হয় তাদের।

তবে দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চিন্তা ভাবনার এবং মানসিকতার আমূল পরিবর্তন আসছে। প্রত্যেকটি মেয়েই এখন চাকরি সুত্রে বাইরে থাকছে,পাশাপাশি মায়েরা তাদের ছেলেদের গৃহকর্মে নিপুন করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষার রিপোর্ট এ দাবি করা হয়েছে যে, ভারতে বসবাসকারী মাত্র ১০ শতাংশের মতো পুরুষ’ বাড়ির সমস্ত ঘরোয়া কাজে মহিলাদের সাহায্য করেন। তবে তার সংখ্যা নেহাতই অল্প।

২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এই সমীক্ষার ফলাফল এসেছে সামনে। এই সমীক্ষায় প্রায় ৪৫ লক্ষেরও বেশি পুরুষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।তাদের সারা দিনের কাজ কর্মের খুটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪৮ শতাংশ মহিলা সারাদিন এমন পরিশ্রম করেন যার জন্য তারা কোনো বেতন পান না। এইরকম বিনা বেতনে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত তাঁরা তাঁদের পরিবারের মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে এই সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের ৮০% পুরুষরা দিনে যা পরিশ্রম করেন তার জন্য উপযুক্ত বেতন অথবা পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন তারা। অর্থাৎ পুরুষদের দৈনিক পরিশ্রম বেতন ভিত্তিক, কিন্তু মহিলাদের তা নয়। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের মাত্র ৬.১ শতাংশ পুরুষ দিনের কিছু সময় রান্নার জন্য অতিবাহিত করেন। মাত্র ৪ শতাংশ পুরুষ ঘর পরিষ্কার এবং ৩ শতাংশ পুরুষ কাপড় কাচার ক্ষেত্রে মহিলাদের সাহায্য করে থাকেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বৈষম্য আমরা ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দিই।তাই ৬ থেকে ১৪ বয়সী ছেলেরা দিনের বেশিরভাগ সময়ে পড়াশোনা না হয় খেলাধুলা করে কাটায়। অন্যদিকে একই বয়সী মেয়েরা তখন বেশি সময় অতিবাহিত করে ঘরোয়া কাজে।

এছাড়া জানা গেছে যে, দেশের ৮৭ শতাংশ পুরুষ সারাদিন পর বিশ্রামের জন্য যথেষ্ট সময় পান। যেখানে ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী মহিলারা ঠিকমতো স্নান এবং খাওয়াদাওয়ার সময় টুকু পান না। তাই আপনারা যদি মনে হয় এই সমীক্ষা একেবারে সঠিক, তাহলে অবিলম্বে আপনার সহধর্মিনী কে সারা দিনের কাজে একটু হলেও চেষ্টা করুন সাহায্য করতে।