কেন রয়েছে সিঁদুর খেলা’র চল? বিসর্জনের আগে মাকে মিষ্টিমুখ কেন? জানুন পৌরানিক ব্যাখা

138

নবমীর রাত পোহালো মানেই, বাঙালির মনে বিষাদের সুর বাজতে থাকে। দশমীতে যে উমা বাপের বাড়ি ছেড়ে স্বামীগৃহের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেবে। আবার এক বছরের প্রতীক্ষা। তাই বিদায় বেলায় উমাকে সিঁদুর পরিয়ে, মিষ্টিমুখ করিয়ে বাপের বাড়ি থেকে বিদায় জানানো হয়। কিন্তু শাস্ত্র মেনে দীর্ঘদিন যাবৎ যে নিয়মাবলী পালন করে আসছে বাঙালি, সেই প্রতিটি নিয়মের পেছনে কোনো না কোনো গুঢ় তত্ত্ব লুকিয়ে আছে।

এই তত্বের কিছুটা আমরা জানি, কিছুটা শাস্ত্রের নিয়ম হিসেবে পালন করে আসছি। জানেন কি, দশমীর আগে বিজয়া শব্দটিকে কেন জুড়ে দেওয়া হয়েছে? কেন রয়েছে “সিঁদুর খেলা”র চল? বিসর্জনই বা কেন? আর বিসর্জনের আগে মাকে মিষ্টিমুখ করানোর প্রচলন কেন হল? সেই সমস্ত প্রশ্নের জবাব আমরা খুঁজবো এই প্রতিবেদনে। পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে, আশ্বিন মাসের দশমী তিথিতে উমা বাপের বাড়ি ছেড়ে কৈলাসে পাড়ি দেন।

এই দিনেই মহিষাসুর বধ করেছিলেন তিনি। পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে, মা দুর্গা নয় দিন নয় রাত্রি একটানা যুদ্ধ করে দশম দিনে মহিষাসুর বধ করতে সমর্থ হয়েছিলেন। অর্থাৎ এই দশ দিনের মাথায় বিজয় লাভ করেছিলেন তিনি। তাই দশমীকে “বিজয়া দশমী” হিসেবে পালন করার প্রথা শুরু হয়। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণাচতুর্দশী-তে দেবী আবির্ভূত হয়ে শুক্লা দশমীতে মহিষাসুরের বিরুদ্ধে বিজয়লাভ করেছিলেন।

বিজয়া দশমী আবার “সিঁদুর খেলা”র বিধি ছাড়া অসম্পূর্ণ। হিন্দু শাস্ত্র মতে, সিঁদুর সকল বিবাহিত নারীর আভূষণ। হিন্দু নারীরা স্বামীর দীর্ঘায়ু এবং মঙ্গল কামনার্থে সিঁথিতে সিঁদুর পরেন। মা দুর্গা যেহেতু বিবাহিতা তাই তাকে সিঁদুর পরিয়ে, মিষ্টিমুখ করিয়ে বাপের বাড়ি থেকে বিদায় জানানোর রীতি আছে। সনাতনী রীতি অনুসারে মানব শরীরআকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল ও মাটি দ্বারা গঠিত বলে মনে করা হয়। মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তিকে যেখানে চিন্ময়ী রূপে আরাধনা করা হয়ে থাকে, সেখানে বিদায় জানানোর সময় সেই মাতৃমূর্তিকে পঞ্চভূতের এক রুপ অর্থাৎ জলেই বিসর্জন দেওয়ার রীতি রয়েছে।